619902625 912278484499684 7720423750239953232 n

নেতাজি সুভাষচন্দ্র ও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র

✍️

অধ্যাপক প্রশান্ত চক্রবর্তী

619902625 912278484499684 7720423750239953232 n

নেতাজি জয়ন্তীর দিন কোনো-না-কোনো চ্যানেলে শ্যাম বেনেগালের “বোস : দ্য ফরগটেন হিরো” ছবিটি দেখানো হয়। অনেকেই নিশ্চয় দেখেছেন। একটা বিশেষ দৃশ্য মনে আছে কি? ওই যে–জাপান আত্মসমর্পণ করেছে, এই দুঃসংবাদ শোনার পরই নেতাজি নিজের সাধন কক্ষে প্রবেশ করলেন। ক্যামরা পেছন থেকে। সামনে দুটো আসন। নেতাজি সেই আসনের দুটি ছবির সামনে ধ্যানমগ্ন হলেন। ক্যামেরা আরও কাছে গেল। দর্শক দেখছে–স্বামী বিবেকানন্দর বিখ্যাত ধ্যানী ছবিটি। পাশে আরেকটি আসন। কে ওখানে? দর্শক দেখছে–সেই আসনে যাঁর প্রতিকৃতি, তিনি সৎসঙ্গের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র।

প্রিয় পাঠক, অাপনি কি অবাক হচ্ছেন? নেতাজি সুভাষচন্দ্র জীবনের কঠিন সংকটে স্বামী বিবেকানন্দর পাশে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের প্রতিকৃতি রেখে ধ্যান করছেন! শ্যাম বেনেগালের মতন বিশ্বমানের পরিচালক তো বায়োপিক করার আগে রীতিমতো রিসার্স টিম দিয়ে তথ্যপাতি ছেনে ছবি তৈরি করেন। এবং ছবিটি স্বয়ং নেতাজির জীবন। নেতাজির সঙ্গে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সংযোগটি এই পর্যায়ে যখন শ্যাম বেনেগাল দেখান~তখন নিশ্চয় সেটি তথ্যভিত্তিক হবেই।

দাঁড়ান, তথ্যসূত্রটি দিচ্ছি। এবং প্রামাণ্য তথ্য।

নেতাজি অতি উত্তম বাংলা গদ্য লিখতেন। তাঁর বাংলা রচনার মধ্যে সুভাষচন্দ্র তাঁর পিতার একটি জীবনী লিখে গেছেন। বাংলায়। আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত “শ্রীসুভাষচন্দ্র বসু সমগ্র রচনাবলী, প্রথম খণ্ড”-র(প্রথম সং ১৯৮০, পঞ্চম মুদ্রণ, ১৪১৯ বঙ্গাব্দ) ‘নিবেদন’ শীর্ষক ভূমিকায় নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর পক্ষে শিশিরকুমার বসু লিখেছেন : “পরিশিষ্টে বসু ও দত্ত পরিবারের বংশধারা ছাড়া আমরা দুটি মূল্যবান রচনা প্রকাশ করলাম। ‘জানকীনাথ বসুর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত’ সুভাষচন্দ্র অগ্রজ শরৎচন্দ্রের অনুরোধে ১৯৩৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পিতৃবিয়োগের পরেই লিখেছিলেন। মূল পাণ্ডুলিপিটি নেতাজী রিসার্চ ব্যুরোর সংগ্রহশালায় আছে।” নিজের পিতার জীবনীতে কী লিখেছেন সুভাষচন্দ্র এবারে দেখি আসুন। নেতাজি লিখেছেন : ” জানকীনাথ চিরকাল ধার্মিকচিত্ত ছিলেন। বহুকাল যাবৎ তিনি কটকের Theosophical Lodge-এর সভাপতি ছিলেন। ১৯১২। খৃষ্টাব্দে বাগবাজারের ঁপণ্ডিত শ্যামনাথ ভট্টাচার্য মহাশয়ের নিকট তিনি সস্ত্রীক প্রথমে দীক্ষা গ্রহণ করেন। প্রথম গুরুর স্বর্গপ্রাপ্তির কয়েক বছর পর তিনি পুনরায় সস্ত্রীক হিমাইতপুরের ঠাকুর শ্রীঅনুকূলচন্দ্র চক্রবর্তী মহাশয়ের ‘সৎ-সঙ্গে’ যোগদান করেন এবং সেইখানে দীক্ষা গ্রহণ করেন। বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁহার ধর্মপ্রবৃত্তি আরও বলবতী হইয়াছিন। তাঁহার কর্মবহুল ও সংগ্রামরত জীবনে ধর্মের প্রেরণাই ছিল সবচেয়ে বড় সহায় ও শক্তির উৎস।”(নেতাজি রচনাবলি, প্রথম খণ্ড, পৃ. ৩১৫-৩১৬)।

সুশীল পাঠক, আশাকরি এবারে আপনি কিছুটা অনুমান করতে পারছেন–কেন শ্যাম বেনেগাল তাঁর তৈরি নেতাজির বায়োপিকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ছবিটি ব্যবহার করেছিলেন। নেতাজির জনকজননী জানকীনাথ বসু ও প্রভাবতী দেবী শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দীক্ষা গ্রহণ করে সৎসঙ্গের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নেতাজির মামা ব্যারিস্টার যোগীন্দ্রনাথ দত্ত(জে.এন. দত্ত নামে খ্যাত) প্রথমে সপরিবার সৎসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর জানকীনাথের জ্যেষ্ঠপুত্র, অর্থাৎ নেতাজির অগ্রজ শরৎচন্দ্র বসুও দীক্ষা গ্রহণ করেন।(দ্র. ‘শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র’, ২য় খণ্ড, ব্রজগোপাল দত্তরায়,তপোবন প্রকাশন, ২০০৫, পৃ.২৫৭)। জানকীনাথের জন্ম ১৮৬০। আর শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আবির্ভাব ১৮৮৮। শিষ্যের চেয়ে গুরু আটাশ বছরের ছোট। সকলেই জানেন, নেতাজি অত্যন্ত মাতৃভক্ত ছিলেন। আর পিতার প্রতি ছিল তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা। কাজেই পিতামাতার গুরু ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের প্রতিও তাঁর অপরিসীম ভক্তিশ্রদ্ধা ছিল। ১৯২১-এ আইসিএস করে দেশে ফেরার কিছুদিন পরই তিনি পিতামাতার গুরুকে দর্শন করার জন্য প্রথম গিয়েছিলেন। তাঁর মামা যোগীন্দ্রনাথ তাঁকে নিয়ে যান। ঠাকুর তখন কলকাতায়। সেই ঘটনা লিখে গেছেন সুশীল বসু। লিখছেন : “সুভাষচন্দ্র I.C.S. পাশ করার পর চাকুরী না করে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করবেন এইরূপ সিদ্ধান্ত নিয়েই ভারতে ফিরলেন। দেশে ফিরবার কয়েকদিন পরেই শ্রীশ্রীঠাকুরের সাথে সাক্ষাৎ করবার জন্য তাঁর মামা, ব্যারিষ্টার জে. এন. দত্তর সঙ্গে বাগবাজার কালীপ্রসাদ চক্রবর্তী ষ্ট্রীটে দুর্গা মাসীমার বাড়ীতে আসেন। সে সময়ে শ্রীশ্রীঠাকুর, জননী মনোমোহিনী দেবী, অনন্ত মহারাজ ও আমি দুর্গা মাসীমার বাড়ীতে ছিলাম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সেবার influenza সংক্রামক ব্যাধিরূপে দেখা দেয়। তখন এই জ্বরকে war fever বলা হত। এই war fever-এ তখন শ্রীশ্রীঠাকুর ও আমি প্রবলভাবে আক্রান্ত হই।”(“মানসতীর্থ পরিক্রমা”, সুশীলচন্দ্র বসু, দ্বিতীয় সং, ২০০০, পৃ. ১৭৬)।

মহামারিতে শ্রীশ্রীঠাকুরের জ্বর থাকায় সেবার সুভাষচন্দ্র পিতামাতার গুরুর দর্শনে বঞ্চিত হলেন। ইতিমধ্যে জানকীনাথ ও প্রভাবতী সৎসঙ্গের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেছেন। পরের বছর, ১৯২২-এর পূজার পর সুভাষজননী প্রভাবতী দেবীর সনির্বন্ধ অনুরোধে ঠাকুর পুরীতে যান। সেখানে আমস্ট্রং রোডে বসু-পরিবারের নিজস্ব বাড়ি ছিল “হরনাথ লজ”। হরনাথ সুভাষচন্দ্রের ঠাকুরদা। সেই বাড়িতে শ্রীশ্রীঠাকুর, তাঁর মা মনোমোহিনী সহ অনেকেই বসু-পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করেন। তবে সুভাষচন্দ্র ছিলেন না।

সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের প্রথম কথাবার্তা হয় ১৯২৭-এ। মান্দালয় জেল থেকে মুক্তির পর ভগ্নস্বাস্থ্য পুত্রকে গুরু অনুকূলচন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছিলেন মা প্রভাবতী। পাবনা হিমাইতপুর আশ্রমের সব কিছু ঘুরে ঘুরে দেখে সুভাষচন্দ্র বলেছিলেন : ” সাধারণত আশ্রম বলতে লোকে সন্ন্যাসী বা গৃহত্যাগীদের আশ্রমই বোঝে। গৃহী হয়ে পরিবার-পরিজনসহ আশ্রমজীবন যাপন করবার দৃষ্টান্ত আপনারাই প্রথম দেখাচ্ছেন।”(সুশীলচন্দ্র বসুর পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃ. ১৭৭)। প্রত্যক্ষদর্শী ব্রজগোপাল দত্তরায় লিখেছেন : “জনকজননীর ইষ্টদেবতা বলিয়া সুভাষচন্দ্রও অল্প বয়স হইতেই শ্রীশ্রীঠাকুরকে অশেষ শ্রদ্ধা করিতেন। কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠালাভ কালেও দেশের নানা সমস্যা সম্বন্ধে আলাপ-আলোচনাদি করিতে কয়েকবার তিনি শ্রীশ্রীঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে আসিয়াছেন। শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণিপাত পূর্বক তাঁহার পাদমূলে উপবেশনকরতঃ কেমন করে বিনীতভাবে সুভাষচন্দ্র কথাবার্তা বলিয়াছেন, মহাতেজস্বীর বিনয়নম্র মধুর ভাবপ্রকাশের সে অপূর্ব দৃশ্য জীবনে কোন দিন বিস্মৃত হইব না।”(ব্রজগোপাল দত্তরায়ের পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃ. ২৫৮)।

কী কথা হয়েছিল দুজনের মধ্যে? প্রাথমিক কুশলাদি বিনিময়ের পর সুভাষচন্দ্র শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে জানতে চেয়েছিলেন : “দেশের নানা কাজই তো করবার আছে। তা দেশের প্রকৃত সেবা করতে হলে কোথা থেকে আরম্ভ করতে হবে? এ বিষয়ে আপনার মত কী?”

শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন : “আমার কথা হচ্ছে দেশের কাজ করতে হলে প্রথমে মানুষ তৈরির programme নিতে হবে। ভাল মানুষ পেতে হলে প্রথমে বিবাহ-সংস্কার আশু প্রয়োজন। আর এটা এমনভাবে করতে হবে যাতে সব বিয়েগুলিই compatible(সুসঙ্গত) হয়; আর compatible মানেই বিহিত সঙ্গতি। বর্ণ, বংশ, আয়ু, স্বাস্থ্য ইত্যাদি সব বিচার করে দেখে-শুনে কাজ করতে হয়। বিহিত বিবাহ হলেই ভালো সন্তানাদি আসে, আর তখন তাদের দ্বারাই দেশের, দশের সবারই কাজ হয়।”

সুভাষচন্দ্র বললেন : “মানুষ তৈরির যে আশু প্রয়োজন তা ভেবেছি। কিন্তু তা করতে হলে যে বিবাহ-সংস্কারের প্রয়োজন তা ভেবে দেখিনি। বিবেকানন্দও মানুষ তৈরির কথা বলে গিয়েছেন, কিন্তু কী করে হবে তা তেমন করে বলে যাননি। আমার মনে হয়, তিনি শিক্ষার উপরই জোর দিয়েছেন। কিন্তু এখন ভেবে দেখছি, ভালো সংস্কার-সম্পন্ন শিশু যদি না জন্মায়, শুধু শিক্ষা তাদের বিশেষ কী করতে পারে? বীজ থেকেই তো গাছ হয়, বীজ ভালো হলেই গাছ ভালো হবে। এটা আপনার কথা শুনে বুঝতে পারছি। কিন্তু এ তো দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ।”

ঠাকুর বললেন : ” দীর্ঘ সময় তো নেবেই। আমরা তো এতদিন পর্যন্ত জাতির জন্য কিছুই করিনি। বহু গলদ জমে গেছে। তা সাফ করতে সময় নেবে বৈকি। কোনো short-cut progranme-এ জাতির সত্যিকার কল্যাণ হবে বলে আমার মনে হয় না।”(সুশীলচন্দ্র বসুর পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃ. ১৭৭-৭৮)।

এভাবে নানা কথা হলো। সুভাষচন্দ্র ঠাকুরকে প্রণাম করে বিদায় নিলেন।

এরপর শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের সাক্ষা ঘটে ১৯৩৯-এ। সেই ঐতিহাসিক অন্তর্ধানের আগে সেটাই শেষ দেখা। ততদিনে তিনি জননেতা। ত্রিপুরী কংগ্রেসে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র হয়। তিনি নিজে ফরোয়ার্ড ব্লক দল গঠন করেন। ওই বছর ৪ জুলাই পাবনায় রাজনৈতিক সম্মেলন উপলক্ষে গেছিলেন। কাছেই হিমায়েতপুর আশ্রম। ঠাকুরদর্শনে এলেন। ঠাকুর তাঁকে সেবার আশ্রমে রাত্রিযাপনের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ঢাকায় বিশেষ কার্যসূচি থাকায় সেদিনই চলে যান। তিনি আশ্রমে আসায় লোকে লোকারণ্য। মনের ভেতর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের তোলপাড়। ঠাকুরের সঙ্গে একান্তে কথা বলার খুব ইচ্ছে প্রকাশও করেন। আশ্রম-সম্পাদক সুশীল বসুকে তিনি বলেন : “শ্রীশ্রীঠাকুরকে কয়েকটি কথা জিজ্ঞাসা করব বলে এসেছিলাম, এত লোকের ভিড়ে তা আর সম্ভব হলো না।” সুশীলবাবু বললেন : “আসুন-না, আমি লোক সরিয়ে দিয়ে, যাতে শ্রীশ্রীঠাকুরের সাথে privately কথা বলতে পারেন তার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।” সুভাষচন্দ্র বললেন : “এত লোকের অসুবিধা করতে চাই না।”

সেই শেষ। আর দেখা হয়নি। আমাদের পরম কৌতূহল থেকে গেল, পিতামাতার গুরুর কাছ থেকে কোন মার্গদর্শন চেয়েছিলেন তিনি! একান্তে কথা হলে কি সুভাষচন্দ্রের জীবনের রহস্যময় পরিণতিতে ঘটত না? ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র কি তাঁকে ভিন্ন রাজনৈতিক পথনির্দেশ দিতেন!

নিজে ঠাকুরের কাছে দীক্ষা নেননি। যদিও তাঁর রাজনৈতিক গুরু দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন কিন্তু ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কাছে নিজে গিয়ে দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তবে সুভাষচন্দ্র পিতামাতার গুরুকে প্রাত্যহিক জীবনে বহন করতেন। এমনকি যুদ্ধের আবহেও। শ্যাম বেনেগাল তাই সঠিক তথ্যই তাঁর ছবিতে দেখিয়েছেন। আরেকটি তথ্য পেয়েছি। কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি পত্রিকা “The Blooming Blaze”(1st Feb, 1968, 1st Vol. 14th Issue)-তে একটি কাহিনি প্রকাশিত হয়েছিল। সেটি আজাদ হিন্দ বাহিনীর এক বাঙালি অফিসারের প্রত্যক্ষ জবানিতে :” When Netaji was leaving his comrades-in-arms for good, a Bengalee Army Officer lamented before Subhash Chandra that he(Netaji) was going empty-handed and practically unaided in the smouldering embers of war. Promptly came the reply, ‘You donot know, I never miss to carry the photograph of my mother’s Gurudev, Gita and Tulsi-garland of Sri Hari. Well, I am carrying with me a Empire.’ “

প্রিয় পাঠক, মায়ের গুরু শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ছবি যে নেতাজি সঙ্গে রাখতেন, সেই তথ্যটি কি আপনি স্বচক্ষে দেখতে চান? তাহলে, আজই চলে যান কলকাতার এলগিন রোডের ‘নেতাজি ভবন’ ও মিউজিয়ামে। দেখবেন– ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিতে তিনি যে-ঘরে স্বেচ্ছাগৃহবন্দী জীবন যাপন করেছিলেন, সেখানে সুভাষচন্দ্র তাঁর বিছানার শিয়রের দিকের দেয়ালে তিনখানা ছবি রেখেছিলেন–পিতা জানকীনাথ ও পিতামহ হরনাথের পাশে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের যুবাবয়সের একটি ছবি। ঠাকুরের এইরকম ছবিটিই শ্যাম বেনেগাল তার ছবিতে ব্যবহার করেছেন। নেতাজি ভবনের উপরতলায় আজও সেই ছবি আছে। প্রিয় পাঠক, আমি গিয়ে দেখে এসেছি। আপনিও যান।

◾সংগৃহীতঃ দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকা ২৪.০১.২০২১

লেখকঃ গুয়াহাটির কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান

#সৎ_অন্বেষণা ।। #sat_anwesana ।। লাইক করুন ।। শেয়ার করুন ।।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *